বার্তা সম্পাদক- এস এম ফজলে রাব্বী শুভ:-

প্রতিদিন সকালে একটি ব্যাগ হাতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করতে বোনের সাথে বের হত রাহেলা বেগম (৪৫)। সারাদিন যা রোজগার করতো তা দিয়েই মুখে ভাত জুটতো। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস আজ রাহেলা বেগম লাশ হয়ে ফিরে আসলো বাড়িতে। 

গেল সপ্তাহে ধুনটের মত একটি উর্বর জায়গায় একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার বগুড়ার ধুনটে হাসিলা বেওয়া (৪৫) ভিখারিনীর লাশ উদ্ধার করেছে ধুনট থানা পুলিশ। এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা থেকে ভিক্ষুক ও রেহাই পেল না। একজন ভিক্ষুকের ও যে শত্রু থাকতে পারে, এমন ঘটনা দেখে সত্যি নিজেকে মানুষ ভাবতে ঘৃনা লাগছে। আল্লাহর সৃষ্টির সেরা জীব যদি মানুষ হয়, আর সেই মানুষরুপি জানোয়ারের হাতে আজ ভিক্ষুকও রেহাই পেল না। উপজেলার কালেরপাড়া  ইউনিয়নের ঘুঘড়াপাড়া গ্রামে ভিখারিনী হাসিলা বেওয়া (৪৫) এর গলায় কালো কাপড় পেচানো অবস্থায় বাড়ির পাশে আবাদী জমিতে মৃত দেহ উদ্ধার করেছে ধুনট থানা পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ভিখারিনী উপজেলার কালেরপাড়া সংলগ্ন ঘুঘড়াপাড়া গ্রামের মৃত শুকরা মন্ডলের মেয়ে।

থানা সুত্রে জানা যায়, নিহত ভিখারিনী হাসিলা বেওয়ার স্বামী মওলা বক্স ২৫ বছর আগে মারা যায়। এরপর হতে বাবা'র বাড়িতে থেকে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার একটি ছেলে আছে হাসেম আলী (২৬)। সে হাসিলার বড় বোন ধলি বেওয়ার বাড়িতে থাকেন এবং দিনমজুরের কাজ করেন। নিহত ভিখারিনী সোমবার সকালে বড় বোন ধলি বেওয়ার সাথে ভিক্ষা করার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যান এবং রাত সাড়ে ৭ টায় বাড়ি ফেরেন। এর কিছুক্ষণ পর আনুমানিক রাত ৮ টায় বড় বোন ধলির সঙ্গে আনারপুর গ্রামে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা দিয়ে সে রাতে আর বাড়ি ফিরে আসেন নাই।
পরদিন মঙ্গলবার সকাল ৬ টায় তার বাড়ি হতে আনুমানিক ৪০০/৫০০ গজ দক্ষিণে আবাদি পতিত জমিতে লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। নিহতের ছেলে জানান, মা'কে ছেড়ে স্ত্রী সন্তান নিয়ে খালার বাড়িতে থাকি। সকালে খবর পেয়ে দেখতে এসেছি। কে বা কারা আমার মা'কে শ্বাসরুদ্ধ করে খুন করেছে।

এ ব্যাপারে ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃপা সিন্ধু বালা জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে।

Post a Comment

ধন্যবাদ,
আপনার মন্তব্যের জন্য।

নবীনতর পূর্বতন