​মানুষের ভালোবাসা নিয়েই বিদায় নিচ্ছেন ইউওনো সঞ্জয় কুমার মহন্ত।। 


এস এম ফজলে রাব্বি শুভ - ধুনট,বগুড়া - 


বিদায় সবসময় এক কষ্টের অনুভূতির নাম।গোধূলির কথা বুঝেছি যখন আজ ঘনিয়েছে বেলা, সমুদ্র হয়েছে বিরামহীন মায়া বেড়ে কি করে থামাব এ বিদায়ের তোলপাড় দোলা ৷


মানুষের ভালোবাসা নিয়েই বিদায় নিচ্ছেন ধুনটের সবার প্রিয় চৌকস নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মহন্ত। ছোট বেলা থেকেই মেধাবী ছিলেন তিনি, মধ্যবৃত্ত্ব ঘরে জন্ম নিলেও ইচ্ছা ছিলো পড়াশোনা শেষ করে ভালো কিছু করার।সেই  চিন্তা চেতনাকে মনে ধারণ করে চালিয়ে যান পড়াশুনা।প্রথমে শিক্ষকতা,তারপর ভূমি সহকারী সব শেষে ধুনট উপজেলাতেই প্রথম নির্বাহী কর্মকর্তা  ইউএনও হিসাবে যোগদান করেন।


উপজেলায় যোগদান করার পর থেকেই উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলা হিসাবে গড়তে শুরু করেন কাজ। ইউএনও হয়ে মানুষের মাঝে ইউএনও ভীতি দূর করতে চাকরির প্রথম কর্মস্থল ধুনট  উপজেলার সাধারণ মানুষকে পরিবার মনে করে ভালোবাসতে শুরু করেন তিনি।


স্থানীয় এমপি,রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী,চেয়ারম্যান,মেম্বার,গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে নিয়ে 

দুই  বছরেরও বেশি  কর্ম সময়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ, ঘুস-দুর্নীতি রোধ, মাদক ও শিক্ষানীতিতে জিরো টলারেন্স, অসহায় সাংবাদিক পরিবারের পাশে দাঁড়ানো ও নিজের বিনয়ী আচরণ এবং নিজ দায়িত্বের বাইরে অনেক সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে বেশ প্রশংসিত হন ইউএনও সঞ্জয় কুমার মহন্ত। আর এই কাজের বিনিময়ে বগুড়া  জেলার শ্রেষ্ঠ  ইউএনও নির্বাচিত হন তিনি।সাংস্কৃতিমনা এই মানুষটি দিনে দিনে মানুষের ভালোবাসার পাত্র হিসাবে সবার মনে জায়গা করে নেন তিনি,শুধু তাই নয় তিনি যে শুধু মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন তা কিন্তু ঠিক না,তার সহধর্মিণী সুমি চৌধুরীও সাধারন মানুষের মন জয় করেছেন।স্বামীর সাথে ভ্যানগার্ডের মত পাশে থেকে উপজেলা কে কিভাবে সুন্দর করা যায় এই চেষ্টাও তিনি তার পাশে থেকে করেছেন।


দুই বছরের কিছু বেশি সময় এ উপজেলায় চাকরির পর গত ৭ মার্চ ছিল ওই ইউএনওর শেষ কর্মদিবস। সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী করা হয় বদলি। দায়িত্ব দেয়া হয় অন্য উপজেলায়।

গত ৭ মার্চে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মহন্তকে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলায় এবং গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানে আলমকে ধুনট উপজেলায় পদায়ন করা হয়।মোঙ্গলবার ৭ মার্চ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের মাঠ প্রশাসন শাখার সিনিয়র সহকারী কমিশনার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মুহিদুল হক সাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


আমি সরকারি দায়িত্ব পালন করেছি, মানুষের অনেক সমস্যারই সমাধান করতে পারিনি। তবে আমি চেষ্টা করেছি সব সেবাগ্রহীতার কথা শুনতে। সেটা অফিস সময়ই হোক আর গভীর রাতেই হোক। মোট কথা গত দুই বছরের বেশির ভাগ সময় আমি এই উপজেলাকে নিয়ে ভেবেছি। বিনিময়ে মানুষের অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পেয়েছি। বিদায় বেলা মানুষ যেভাবে আমাকে বিদায় দিয়েছেন আমি তাতে খুবই কৃতজ্ঞ। ইউএনও হিসেবে প্রথম স্টেশন এই ধুনট উপজেলা ও মানুষের কথা  আমি কখনো ভুলব না।

Post a Comment

ধন্যবাদ,
আপনার মন্তব্যের জন্য।

নবীনতর পূর্বতন