বগুড়া ধুনট উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী হারেজ উদ্দিন আকন্দের নৌকা মার্কার নির্বাচনী প্রচারণায় সরব হয়ে উঠেছে ভোটের মাঠ। হঠাৎ ধুনট উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের উপনির্বাচনে ভোটারদের চমকে দিয়েছেন ধুনট উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে নৌকা প্রতীককে জয়ী করতে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মী। এতে জমে উঠেছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণা। দলীয় কোন্দল ভুলে সব নেতাকর্মীরা একসঙ্গে পথসভা, পোস্টার-লিফলেট বিতরণ, নির্বাচনী উঠান বৈঠক, মটর সাইকেল সোডাউন ও ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ভোট প্রার্থনা শুরু করেছেন। ফলে এখানকার আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থীর নির্বাচনী সু-বাতাস বইতে শুরু করলেও সাধারন নেতাকর্মী ও ভোটারবৃন্দরা বলছেন, উপজেলার আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা কর্মীরা এক কাতারে দাড়ালেও কিছু কিছু নেতাকর্মীরা গোপনে গোপনে অন্য প্রার্থীর ভোট করছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন।
কালেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের উপনির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠন তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা তত বৃদ্ধি পেয়েছে। সমস্ত দ্বন্দ্ব ভুলে এক কাতারে আসার চেষ্টায় রয়েছে তারা। সকল নেতাদের বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু এখন নৌকার বিজয়কে ঘিরে। কিভাবে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করা যায় সে লক্ষ্যে মূল দলসহ সকল সহযোগী সংগঠনের সাংগঠনিক তৎপরতায় এখন মুখরিত পুরো উপজেলা জুড়ে। নেতাকর্মীদের দাবি, নৌকার প্রার্থী হারেজ উদ্দিন আকন্দ কে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। প্রতিদিনই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে খুলি বৈঠক করছেন নেতাকর্মীরা। উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ব্যক্তি যেই হোক সেটা মুল বিষয় নয়, বঙ্গবন্ধুর মার্কা নৌকা, জননেত্রী শেখ হাসিনার মার্কা নৌকা, আপনার মার্কা নৌকা, আমার মার্কা নৌকা। জননেত্রী শেখ হাসিনা মনোনীত প্রার্থীর উপর আস্থা রেখে নৌকা প্রতিক দিয়েছেন। আমাদের উচিত জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর আস্থা রেখে সকলকে নৌকার বিজয়ের লক্ষে কাজ করতে হবে এবং নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে হবে। এদিকে দলীয় কোন্দলের অবসান হওয়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলেন, আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজনীতির মাঠে দেখে আমরা খুবই আনন্দিত। শুধু তাই নয় এতে জনগণও আনন্দিত। আওয়ামী লীগের তৃনমুলের নেতা কর্মীরা বলেন, আওয়ামী লীগকে সব সময় ঐক্যবদ্ধ দেখতে চায় তৃনমুলের নেতা কর্মীরা, তারা আক্ষেপ করে বলেন, আমরা রাজনীতি করি চাওয়া পাওয়ার উর্ধ্বে, আমরা চাই সবাই মিলে মিশে রাজনীতি করবো এটাই আমরা সবসময় প্রত্যাশা করি। কিন্তু উপজেলায় যখন গ্রুপিং শুরু হয় তখন সবচেয়ে সমস্যায় পড়তে হয় আমাদের মত সাধারণ নেতাকর্মীদের। এদিকে গেলে আরেক পক্ষ মন খারাপ করে আবার অন্য দিকে গেলে আরেক পক্ষ মন খারাপ করে। আমরা তখন দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যাই। আমরা আজ খুবই আনন্দিত যে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার বিজয়ের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে নৌকার বিজয় কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবেনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার সাবেক এক ছাত্রনেতা বলেন, এই উপনির্বাচনে নৌকার বিজয়ের লক্ষে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যে ভাবে মাঠে নেমেছে এমন চিত্র দেখে সত্যি খুব আনন্দিত হয়েছি। তবে তারা কতটুকু ঐক্য গড়েছেন তা নির্বাচনের ফলাফল দেখেই বোঝা যাবে।
আগামী ২০ তারিখে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
এস এম ফজলে রাব্বী শুভ
বার্তা সম্পাদক- bd1paper
Email: fajlerabbi17@gmail.com
إرسال تعليق
ধন্যবাদ,
আপনার মন্তব্যের জন্য।